জাতীয় উন্নতি
হয় নি’কি ধারণা, বুঝিতে পারনা,
ক্রমে উঠে দেশ উচ্চে!
যেহেতু, যে গুলো রুচিত না আগে,
এখন সে গুলো রুচ্ছে।
কেননা, আমাদের বেড়ে মাথা সাফ্,
‘গ্যানো’ খুলে পড়্ছি ‘বিদ্যুৎ’ ‘আলো’ ‘তাপ’,
মাপ্ছি স্কোয়ার ফুটে বায়ুরাশির চাপ,
(আর) মনের অন্ধকার ঘুচছে।
যেহেতু, বুঝেছি বিস্কুট কেমন মধুর,
কুক্কুট-অস্থি কেমন স্বাদু;
(আর) ক্রমে মদিরায় যার মতি যায়,
কেমনে সে হয় সাধু;
(আর) যে হেতু আমাদের মনে মুখে দুই,
(যাকে) বল্তে হবে ‘আপনি’ তাকে বলি ‘তুই’
চাকরি দেবে ব’ল্লে চরণ-তলে শুই,
আর ঘৃণা করি গরিব তুচ্ছে।
যেহেতু আমরা ‘হ্যাটে’ ঢাকি টিকি,
সদা জামা রাখি শরীরে;
(আর) ‘শ্যাণ্ট্পো’ বলি ‘শান্তিপুর’কে
‘হ্যারি’ ব’লে ডাকি ‘হরি’রে;
যেহেতু আমরা ছেড়েছি একান্ত,
কীট-দষ্ট বাতুলতা বেদ-বেদান্ত,
(মোদের) অস্থিমজ্জাগত সাহেবী, দৃষ্টান্ত
দেখনা অমুক বাড়ুয্যে।
(কারণ) ধর্ম্ম-হীনতাটা ধর্ম্ম আমাদের,
কোনও ধর্ম্মে নাই আস্থা,
কি হবে ও ছাই-ভস্ম গুলো ভেবে?
মস্তিষ্কটা নয় সস্তা;
অণুবীক্ষণ আর দূরবীক্ষণ ধ’রে,
বাইরের আঁখি দুটো ফুটোচ্ছি বেশ ক’রে,
মনশ্চক্ষু অন্ধ, তার খবর কে করে?
সে বেচারী আঁধারে ঘুর্ছে।
(আর) যেহেতু আমরা নেশা করি,
কিন্তু, প্রাইভেট্ ক্যারেক্টার দে’খনা;
কংগ্রেসে যা বলি তাই মনে রেখো,
আর কিছু মনে রেখো না;
বাপকে করি ঘৃণা, মাকে দেই না অন্ন,
বাইরের আবরণটা রাখি পরিচ্ছন্ন,
কোট্ পেণ্টালুনে ঢাকি কৃষ্ণ-বর্ণ;
যেন দাঁড় কাক ময়ূর-পুচ্ছে।
(আর) যেহেতু আমরা পত্নী-আজ্ঞাকারী,
প্রাণ-পণে যোগাই গহনা;
আর বাপরে! তার রুষ্ট আঁখি-তাপে,
শুকায় প্রেম-নদীর মোহনা।
(সে যে) মাকে বলে ‘বেটী’, হেসে দেই উড়িয়ে
(তার) পিতৃ-বংশ নিয়ে আসি সব কুড়িয়ে,
(মোদের) চিনিয়ে দিতে হয় ‘এ মাসী, খুড়ী এ
ভুলে প্রণাম করি না পূজ্যে।
(কারণ) খবরের কাগজ, সাইন বোর্ড, আর
বিজ্ঞাপনের বেজায় ছড়াছড়ি,
(তাতে) দেখবে্ যথাক্রমে ‘পঞ্চানন্দ,’ আর
‘তিনকড়ি কবিরেজ’, ‘প্রেম বড়ি’;
আর যেহেতু আমাদের সাহস অতুল,
সাহেব দেখ্লে, হয় পিতৃ-নামটা ভুল,
(দেশটা) সংক্রান্তি-পুরুষের হাত, পা, মাথা ছেড়ে,
ধ’রেছিল বুঝি, “”!
বসন্ত বাহার—জলদ একতালা।
More from বাণী
Comments (0)
Log in to join the conversation.