যে অবধি না হয় ছিন্ন, জীবনের এই মধুর চিহ্ন, যে অবধি ব্যক্ত না হয়,― ব্যক্ত যাহা হবেই হবে;― সে পর্য্যন্ত মন রে আমার, পূজার্চ্চনার কি ফল তোমার? মন্ত্রজপে―ছেলেখেলায় মিথ্যা নিয়ে মত্ত র’বে? নূতন কিবা বল্‌ব কথা, নব নিঝর বয় না সেথা, নূতন ক’রে পায় না ব্যথা মানুষ কভু মরণ-শেষে; বরষ পরে বরষ নেমে, দেয় গো ঢেকে কতই প্রেমে; হর্ষ-গীতি যায় গো থেমে, অশ্রুজলের স্রোতে ভেসে। একটি দিনের কর্ম্ম যদি, আবিল করে জীবন-নদী, মানুষ যদি হয় গো ঋণী মৃত্যু-মহাজনের কাছে;― ধাক্কা স’য়ে যদি সে তা’র শক্তি ফিরে হয় দাঁড়াবার, জেগেই যদি উঠ্‌বে আবার দু’দিন আগে দু’দিন পাছে;― তবে কেন কান্নাকাটি? কেন হৃদয় ফাটাফাটি? জীবন কেন হ’বে মাটি উপাসনায়―উপবাসে? যতই ডাক করপুটে,― যতই মর মাথাকুটে,― জীবন তবু যাবে টুটে মৃত্যু সাড়া দিলে এসে। কাল!―সে বটে সবার প্রভু;― এড়িয়ে কেহ যায় না কভু; একটু হাসিখুসি তবু ওরি মধ্যে লুট্‌তে হ’বে; নইলে শুধু জীবন, মরণ, দুঃখ ও সুখ, শান্তি ও রণ, কেবল গণন এবং স্মরণ কর্ত্তে শুধু থাক্‌বে ভবে! দু’দিন পরে ভাঙ্‌লে মেলা সকল তা’তেই সমান হেলা,― ইষ্ট মন্ত্র, জপের মালা, কর্ম্ম, খেলা, কান্না, হাসি; যে ক’টা দিন আছিস্ বেঁচে, ফিঙের মত বেড়াস্ নেচে, বিশ্ব ব্যাপার এঁচে, এঁচে, মরিস্ নে আর শূন্যে ভাসি’। সুইন্‌বার্ণ।