ছিনু আমি বিষাদে মগনা         অন্যমনা     তোমার বিচ্ছেদ-অন্ধকারে।     হেনকালে নিৰ্জ্জন কুটীর দ্বারে         অকস্মাৎ      কে করিল করাঘাত, কহিল গম্ভীর কণ্ঠে, অতিথি এসেছি দ্বার খোলো।         মনে হ’লো     ঐ যেন তোমারি স্বর শুনি,    ঐ যেন দক্ষিণ বায়ু দূরে ফেলি’ মদির ফাল্‌গুনী      দিগন্তে আসিল পূর্ব্বদ্বারে,    পাঠালে নির্ঘোষ তা’র বজ্রধ্বনি-মন্দ্রিত মল্লারে।       কেঁপেছিলো বক্ষতল      বিলম্ব করিনি তবু অৰ্দ্ধ পল।  মুহূর্ত্তে মুছিনু অশ্রুবারি,      বিরহিণী নারী,  ছাড়িনু ধেয়ান তব তোমারি সম্মানে,      ছুটে গেনু দ্বারপানে।    শুধালেম তুমি দূত কার?   সে কহিল আমি তো সবার। যে-ঘরে তোমার শয্যা একদিন পেতেছি আদরে    ডাকিলাম তারে সেই ঘরে।      আনিলাম অর্ঘ্যথালি,        দীপ দিনু জ্বালি।  দেখিলাম বাঁধা তারি ভালে যে-মালা পরায়েছিনু তোমারেই বিদায়ের কালে॥ ৪ ভাদ্র, ১৩৩৫ — মহুয়া (1929)