(গোধূলি) কোথারে রাখাল চূড়ামণি? গােকুলের গাভীকুল, দেখ, সখি, শােকাকুল, না শুনে সে মুরলীর ধ্বনি! ধীরে ধীরে গােষ্ঠে সবে পশিছে নীরব,— আইল গােধূলি, কোথা রহিল মাধব! ২ আইল লাে তিমির যামিনী; তরু ডালে চক্রবাকী বসিয়া কাঁদে একাকী— কাঁদে যথা রাধা বিরহিণী! কিন্তু নিশা অবসানে হাসিবে সুন্দরী; আর কি পােহাবে কভু মাের বিভাবরী? ৩ ওই দেখ উদিছে গগণে— জগত-জন-রঞ্জন—সুধাংশু রজনীধন, প্রমদা কুমুদী হাসে প্রফুল্লিত মনে; কলঙ্কী শশাঙ্ক, সখি, তােষে লাে নয়ন— ব্রজ নিষ্কলঙ্ক শশী চুরি করে মন। ৪ হে শিশির, নিশার আসার! তিতিও না ফুলদলে ব্রজে আজি তব জলে, বৃথা ব্যয় উচিত গো হয়না তোমার; রাধার নয়ন-বারি ঝরি অবিরল ভিজাইবে আজি ব্রজে—যত ফুল দল! ৫ চন্দনে চর্চ্চিয়া কলেবর, পরি নানা ফুল সাজ, লাজের মাথায় বাজ; মজায় কামিনী এবে রসিক নাগর; তুমি বিনা, হে বিরহ, বিকট মুরতি, কারে আজি ব্রজাঙ্গনা দিবে প্রেমারতি? ৬ হে মন্দ মলয় সমীরণ, সৌরভ ব্যাপারী তুমি, ত্যজ অজি ব্রজ ভূমি— অগ্নি যথা জ্বলে তথা কি করে চন্দন? যাও হে, মোদিত কুবলয় পরিমলে, জুড়াও সুরতক্লান্ত সীমন্তিনী দলে! ৭ যাও চলি, বায়ু কুলপতি, কোকিলার পঞ্চস্বর বহ তুমি নিরন্তর— ব্রজে আজি কাঁদে যত ব্রজের যুবতী! মধু ভণে, ব্রজাঙ্গনে, করােনা রােদন, পাবে বঁধু—অঙ্গীকারে শ্রীমধুসূদন!