দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে
দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে যেয়ো না চলে, অরুণ-আলো কে যে দেবে যাও গো বলে। ফেরো তুমি যাবার বেলা, সাঁঝ আকাশে রঙের মেলা দেখেছ কী কেমন ক’রে। আগুন হয়ে উঠল জ্বলে। পূব গগনের পানে বারেক তাকাও, বিরহেরই ছবি কেন আঁকাও? আঁধার যেন প্লাবন...
দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে যেয়ো না চলে, অরুণ-আলো কে যে দেবে যাও গো বলে। ফেরো তুমি যাবার বেলা, সাঁঝ আকাশে রঙের মেলা দেখেছ কী কেমন ক’রে। আগুন হয়ে উঠল জ্বলে। পূব গগনের পানে বারেক তাকাও, বিরহেরই ছবি কেন আঁকাও? আঁধার যেন প্লাবন...
তবু তাহা ভুল জানি … রাজবল্লভের কীর্তি ভাঙে কীর্তিনাশা; তবুও পদ্মার রূপ একুশরত্নের চেয়ে আরো ঢের গাঢ়— আরো ঢের প্রাণ তার, বেগ তার, আরো ঢের জল, জয় আরো; তোমারো পৃথিবী পথ; নক্ষত্রের সাথে তুমি খেলিতেছ পাশা: শঙ্খমালা নয় শু...
দিনের আলো নামে যখন ছায়ার তাতলে আমি আসি ঘট ভরিবার ছলে একলা দিঘির জলে। তাকিয়ে থাকি, দেখি, সঙ্গীহারা একটি সন্ধ্যাতারা ফেলেছে তার ছায়াটি এই কমলসাগরে। ডোবে না সে, নেবে না সে, ঢেউ দিলে সে যায় না তবু স’রে— যেন আমার বিফল রাত...
এই সে পরম মূল্য আমার পুজার— না পূজা করিলে তবু শাস্তি নাই তার। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আসনতলের মাটির পরে লুটিয়ে রব। তোমার চরণ-ধূলায় ধূলায় ধূসর হব। কেন আমায় মান দিয়ে আর দূরে রাখো! চিরজনম এমন করে ভুলিয়োনাক! অসম্মানে আন টেনে পায়ে তব। তোমার চরণ-ধূলায় ধূলায় ধূসর হব। আমি তোমার যাত্রিদলের রব পিছে, স্থান...
ধরণীর খেলা খুঁজে শিশু শুকতারা তিমিররজনীতীরে এল পথহারা। উষা তারে ডাক দিয়ে ফিরে নিয়ে যায়, আলোকের ধন বুঝি আলোকে মিলায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয় সে প্রাণ অমৃতলোকে মৃত্যু করে জয়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বাহিরে যাহারে খুঁজেছিনু দ্বারে দ্বারে পেয়েছি ভাবিয়া হারায়েছি বারে বারে— কত রূপে রূপে কত-না অলংকারে অন্তরে তারে জীবনে লইব মিলায়ে, বাহিরে তখন দিব তার সুধা বিলায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)