আমি বেসেছিলেম ভালো
আমি বেসেছিলেম ভালো সকল দেহে মনে এই ধরণীর ছায়া আলো আমার এ জীবনে। সেই যে আমার ভালোবাসা লয়ে আকুল অকূল আশা ছড়িয়ে দিল আপন ভাষা আকাশনীলিমাতে। রইল গভীর সুখে দুখে, রইল সে-যে কুঁড়ির বুকে ফুল-ফোটানোর মুখে মুখে ফাগুনচৈত্ররাতে।...
আমি বেসেছিলেম ভালো সকল দেহে মনে এই ধরণীর ছায়া আলো আমার এ জীবনে। সেই যে আমার ভালোবাসা লয়ে আকুল অকূল আশা ছড়িয়ে দিল আপন ভাষা আকাশনীলিমাতে। রইল গভীর সুখে দুখে, রইল সে-যে কুঁড়ির বুকে ফুল-ফোটানোর মুখে মুখে ফাগুনচৈত্ররাতে।...
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর: অন্ধকারে জৈগে উঠে ডুমুরের গাছে চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড় পাতাটির নিচে ব’সে আছে ভোরের দয়েলপাখি―চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ জাম―বট―কাঁঠালের―হিজলের―অশথ...
স্থান থেকে স্থানচ্যুত হ’য়ে চিহ্ন ছেড়ে অন্য চিহ্নে গিয়ে ঘড়ির কাঁটার থেকে সময়ের স্নায়ুর স্পন্দন খসিয়ে বিমুক্ত ক’রে তাকে দেখা যায় অবিরল শাদা কালো সময়ের ফাঁকে সৈকত কেবলি দূর সৈকতে ফুরায়; পটভূমি বার-বার পটভূমিচ্ছেদ...
তোমার সঙ্গে আমার মিলন বাধল কাছেই এসে। তাকিয়ে ছিলেম আসন মেলে— অনেক দূরের থেকে এলে, আঙিনাতে বাড়িয়ে চরণ ফিরলে কঠিন হেসে— তীরের হাওয়ায় তরী উধাও পারের নিরুদ্দেশে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
তপনের পানে চেয়ে সাগরের ঢেউ বলে, “ওই পুতলিরে এনে দে-না কেউ।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যদি ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এস ওগো এস, মোর হৃদয়-নীরে! তলতল ছলছল কাঁদিবে গভীর জল ওই দুটি সুকোমল চরণ ঘিরে। আজি বর্ষা গাঢ়তম; নিবিড় কুন্তল সম মেঘ নামিয়াছে মম দুইটি তীরে। ওই যে শবদ চিনি, নুপুর রিনিকিঝিনি, কে গো তুমি একাকিনী আস...
ঢের সম্রাটের রাজ্যে বাস ক’রে জীব অবশেষে একদিন দেখেছে দু-তিন ধনু দূরে কোথাও সম্রাট নেই, তবুও বিপ্লব নেই, চাষা বলদের নিঃশব্দতা খেতের দুপুরে। বাংলার প্রান্তরের অপরাহ্ণ এসে নদীর খাড়িতে মিশে ধীরে বেবিলন লণ্ডনের জন্ম, মৃত্যু...
মৃ্ত্যুমাধুরী পরান কহিছে ধীরে— হে মৃত্যু মধুর, এই নীলাম্বর, এ কি তব অন্তঃপুর? আজি মোর মনে হয়, এ শ্যামলা ভূমি বিস্তীর্ণ কোমল শয্যা পাতিয়াছ তুমি। জলে স্থলে লীলা আজি এই বরষার— এই শান্তি, এ লাবণ্য, সকলই তোমার। মনে হয়, যেন...
সন্ধ্যাবেলা লাঠি কাঁখে বোঝা বহি শিরে, নদীতীরে পল্লীবাসী ঘরে যায় ফিরে। শত শতাব্দীর পরে যদি কোনোমতে মন্ত্রবলে, অতীতের মৃত্যুরাজ্য হতে এই চাষী দেখা দেয় হয়ে মূর্তিমান, এই লাঠি কাঁখে লয়ে, বিস্মিত নয়ান— চারি দিকে ঘিরি তার...
শ্রীমতী শোভনা দেবী ও শ্রীমতী নলিনী দেবী- কল্যাণীয়াসু। ছন্দে লেখা একটি চিঠি চেয়েছিলে মোর কাছে, ভাব্ছি ব’সে, এই কলমের আর কি তেমন জোর আছে। তরুণ বেলায় ছিলো আমার পদ্য লেখার বদ্-অভ্যাস, মনে ছিলো হই বুঝি বা বাল্মীকি কি বেদ...