ইন্দিরা — পঞ্চম পরিচ্ছেদ
গভীর রাত্রে সকলে আহারান্তে শরন করিলে পর, আমি নিঃশব্দে রামরাম দত্তের বৈঠকখানায় গেলাম। তথায় আমার স্বামী একাকী শয়ন করিয়াছিলেন। যৌবন প্রাপ্তির পর আমার এই প্রথম স্বামিসম্ভাষণ। সে যে কি সুখ, তাহা কেমন করিয়া বলিব? আমি অত্য...
গভীর রাত্রে সকলে আহারান্তে শরন করিলে পর, আমি নিঃশব্দে রামরাম দত্তের বৈঠকখানায় গেলাম। তথায় আমার স্বামী একাকী শয়ন করিয়াছিলেন। যৌবন প্রাপ্তির পর আমার এই প্রথম স্বামিসম্ভাষণ। সে যে কি সুখ, তাহা কেমন করিয়া বলিব? আমি অত্য...
এখন হইতে এই ইতিবৃত্ত মধ্যে এক শত বার আমার স্বামীর উল্লেখ করিবার আবশ্যক হইবে। এখন তোমরা পাঁচ জন রসিকা মেয়ে একত্র কমিটিতে বসিয়া পরামর্শ করিয়া বলিয়া দেও, আমি কোন্ শব্দ ব্যবহার করিয়া। তাঁহার উল্লেখ করিব? এক শত বার “স্বা...
প্রথমে মনে করিলাম, যে আমার বেতনের টাকা গুলি সংগ্রাহ করিয়া শীঘ্রই পিত্রালযে যাইতে পারিব। কিন্ত মহেশপুর কোথায়, কেহ চিনে না-এমন লোক পাইলাম না যে কোন সুযোগ করিয়া দেয়। মহেশপুর কোন জেলা, কোন দিগে যাইতে হয়, আমি কুলবধূ, এ স...
যখন আমার চৈতন্য হইল, তখন কাক কোকিল ভাকিতেছে। বংশপত্রাবচ্ছেদে বালারুণকিরণ ভূমে পতিত আমি গাত্রোত্থান করিয়া গ্রামানুসন্ধানে গেলাম। কিছু দূর গিয়া এক খানি গ্রাম পাইলাম। আমার পিত্রালয় যে গ্রামে, সেই গ্রামের সন্ধান করিলাম; আ...
ইন্দিরা। প্রথম পরিচ্ছেদ। অনেক দিনের পর আমি শ্বশুর বাড়ী যাইতেছিলাম। আমি উনিশ বৎসরে পড়িয়াছিলাম, তথাপি এ পর্য্যন্ত শ্বশুরের ঘর করি নাই। তাহার কারণ, আমার পিতা ধনী, শ্বশুর দরিদ্র। বিবাহের কিছু দিন পরেই শ্বশুর আমাকে লইতে লো...
অন্তিমকালে। পশুপতি স্বয়ং অষ্টভুজার অর্চনা করিতেন বটে―কিন্তু তথাপি তাঁহার নিত্য সেবার জন্য দুর্গাদাস নামে এক জন ব্রাহ্মণ নিযুক্ত ছিলেন। নগরবিপ্লবের পরদিবস দুর্গাদাস শ্রুত হইলেন যে পশুপতির গৃহ ভস্মীভূত হইয়া ভূমিসাৎ হইয়া...
ধাতুমূর্ত্তির বিসর্জ্জন। মহম্মদআলির নিকট বিদায় হইয়া, রাজপথ অতিবাহিত করিয়া পশুপতি ধীরে ধীরে চলিলেন। ধীরে ধীরে চলিলেন―যবনের কারাগার হইতে বিমুক্ত হইয়াও দ্রুতপদক্ষেপণে তাঁহার প্রবৃত্তি জন্মিল না। রাজপথে যাহা দেখিলেন, তাহ...
মহম্মদআলির প্রায়শ্চিত্ত। যে রাত্রে রাজধানী যবনসেনা বিপ্লবে পীড়িত হইতেছিল, সেই রাত্রে পশুপতি একাকী কারাগারে অবরুদ্ধ ছিলেন। নিশাবশেষে সেনাবিপ্লব সমাপ্ত হইয়া গেল। মহম্মদআলি তখন তাঁহার সম্ভাষণে আসিলেন। পশুপতি কহিলেন, “যবন...
পরামর্শ। হেমচন্দ্র মাধবাচার্য্যের বসতি স্থলে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন যে আচার্য্য জপে নিযুক্ত আছেন। হেমচন্দ্র প্রণাম করিয়া কহিলেন, “আমাদিগের সকল যত্ন বিফল হইল। এক্ষণে ভৃত্যের প্রতি আর কি আদেশকরেন? যবন কর্ত্তৃক বঙ্গ অধিকৃত...
পূর্ব্ব পরিচয়। প্রভাতে হেমচন্দ্র মাধবাচার্য্যের অনুসন্ধানে যাত্রা করিলেন। গিরিজায়া আসিয়া মৃণালিনীর নিকট বসিল। গিরিজায়া মৃণালিনীর দুঃখের ভাগিনী হইয়াছিল, সহৃদয় হইয়া দুঃখের সময়ে দুঃখের কাহিনী সকল শুনিয়াছিল। আজি সুখ...
প্রেম—নানা প্রকার। আনন্দাশ্রু-প্লাবিত-বদনা মৃণালিনীকে হেমচন্দ্র হস্ত ধরিয়া উপবন গৃহাভিমুখে লইয়া চলিলেন। হেমচন্দ্র মৃণালিনীকে একবার অপমানিতা, তিরস্কৃতা, ব্যথিতা, করিয়া ত্যাগ করিয়া গিয়াছিলেন আবার আপনিই আসিয়া তাঁহাকে...
স্বপ্ন। গিরিজায়া কহিল, “গৃহে চল।” মৃণালিনী বলিলেন, “নগরে এ কিসের গোলযোগ?” তখন যবনসেনা নগর মন্থন করিতেছিল। তুমুল কোলাহল শুনিয়া উভয়ের শঙ্কা হইল। গিরিজায়। বলিলেন, “চল এই বেলা সতর্ক হইয়া যাই।” কিন্তু দুই জন রাজপথের নিকট...