আড়ি
কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে— বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে। শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি, সাপে আর নেউলে তো চিরকাল বৈরী! আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন সে? কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়। তেলে দেওয়া বেগুনের...
কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে— বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে। শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি, সাপে আর নেউলে তো চিরকাল বৈরী! আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন সে? কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়। তেলে দেওয়া বেগুনের...
ফিরল সবাই ইস্কুলেতে সাঙ্গ হল ছুটি--- আবার চলে বই বগলে সবাই গুটি গুটি। পড়ার পরে কার কি রকম মনটি ছিল এবার, সময় এল এখন তারই হিসেবখানা দেবার। কেউ পড়েছেন পড়ার পুঁথি, কেউ পড়েছেন গল্প, কেউ পড়েছেন ছন্দমতন, কেউ পড়েছেন অল্প...
ছুটি ছুটি! ছুটি! ছুটি! মনের খুশি রয় না মনে, হেসেই লুটোপুটি। ঘুচলো এবার পড়ার তাড়া, অঙ্ক কাটাকুটি, দেখব না আর পণ্ডিতের ওই রক্ত আঁখিদুটি। আর যাব না স্কুলের পানে নিত্য গুটি গুটি, এখন থেকে কেবল খেলা, কেবল ছুটোছুটি। পাড়ার...
ভোর না হতে পাখিরা জোটে, গানের চোটে ঘুমটি ছোটে--- চোখটি খোলো, গাত্র তোলো, আরে মোলো, সকাল হল। হায় কি দশা, পড়তে বসা, অঙ্ক কষা, কলম ঘষা, দশটা হলে হট্টগোলে দৌড়ে চলে বই বগলে। স্কুলের পড়া, বিষম তাড়া, কানটি নাড়া, বেঞ্চে দা...
ঘুচবে জ্বালা পুঁথির পালা ভাবছি সারাক্ষণ--- পোড়া স্কুলের পড়ার পরে আর কি বসে মন? দশটা থেকেই নষ্ট খেলা, ঘণ্টা হতেই শুরু প্রাণটা করে ‘পালাই পালাই’ মনটা উড়ু উড়ু--- পড়ার কথা খাতায় পাতায়, মাথায় নাহি ঢোকে! মন চলে না, মুখ...
গোপলাটা কি হিংসুটে মা! খাবার দিলেম ভাগ করে, কল্লে নাকো মুখেও কিছু, ফেল্লে ছুঁড়ে রাগ করে। জ্যাঠাইমা যে মেঠাই দিলেন ‘দুই ভায়েতে খাও’ বলে— দশটি ছিল, একটি তাহার চাখতে নিলেম ‘ফাও’ বলে, আর যে নটি, ভাগ করে তায় তিনটে দিলেম গো...
মোমের পুতুল, লোমের পুতুল, আগলে ধরে হাতে, তবুও কেন হাবলা ছেলের মন ওঠে না তাতে? একলা জেগে এক মনেতে চুপটি করে বসে আনমনা সে কিসের তরে আঙুলখানি চোষে? নাইকো হাসি, নাইকো খেলা, নাইকো মুখে কথা, আজ সকালে হাবলাবাবুর মন গিয়েছে কোথা...
ভালো ছেলের নালিশ মাগো! প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটা গুড় মাখিয়ে আরাম করে বসে— আমায় দেখে একটা দিল, নয়কো তাও বড়টা, দুইখানা সে আপনি খেল কষে! তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়ে কিল মেরেছি, ‘হ্যাংলা ছেলে’ ব...
যাদুরে আমার আদুরে গোপাল, নাকটি নাদুস, থোপনা গাল, ঝিকিমিকি চোখ মিটিমিটি চায়, ঠোঁট দুটি তায় টাটকা লাল। মোমের পুতুল ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে, টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে? গোবদা গড়ন এমনি ধরণ আবদ...
হাত-পা-ভাঙা নোংরা পুতুল মুখটি ধুলোয় মাখা, গালটি তার খাবলামতন চোখদুটি তার ফাঁকা, কোথায়-বা তার চুলবিনুনি কোথায়-বা তার মাথা, আধখানি তার ছিন্ন জামা, গায় দিয়েছেন কাঁথা। পুতুলের মা ব্যস্ত কেবল, তার সেবাতেই রত খাওয়ান, শোয...
পুলিশ দেখে ডরাই নে আর, পালাই নে আর ভয়ে, আরশুলা কি ফড়িং এলে থাকতে পারি সয়ে, আঁধার ঘরে ঢুকতে পারি এই সাহসের গুণে, আর করে না বুক দুরদুর জুজুর নামটি শুনে, রাত্তিরেতে একলা শুয়ে তাও তো থাকি কত, মেঘ ডাকলে চেঁচাই নেকো আহাম্ম...
কি ভেবে যে আপন মনে হাসি আসে ঠোঁটের কোণে, আধ-আধ ঝাপসা বুলি, কোন কথা কয় না খুলি। বসে বসে একলা নিজে লোভী ছেলে ভাবেন কি যে— শুধু শুধু চামচ চেটে মনে মনে সাধ কি মেটে? একটুখানি মিষ্টি দিয়ে রাখ আমায় চুপ করিয়ে, নৈলে পরে চেঁচি...