যে শালিখ মরে যায় কুয়াশায়—সে তো আর ফিরে নাহি আসে: কাঞ্চনমালা যে কবে ঝ’রে গেছে;—বনে আজো কলমীর ফুল ফুটে যায়—সে তবু ফেরে না, হায়,—বিশালাক্ষী: সে-ও তো রাতুল চরণ মুছিয়া নিয়া চ’লে গেছে;—মাঝপথে জলের উচ্ছ্বাসে বাধা পেয়ে নদীরা মজিয়া গেছে দিকে দিকে—শ্মশানের পাশে আর তারা আসে নাকো;—সুন্দরীর বনে বাঘ ভিজে জুল জুল চোখ তুলে চেয়ে থাকে—কত পাটরানীদের গাঢ় এলো চুল এই গৌড় বাংলার—প’ড়ে আছে তাহার পায়ের তলে ঘাসে জানে সে কি! দেখে না কি তারাবনে প’ড়ে আছে বিচূর্ণ দেউল, বিশ‍ুষ্ক পদ্মের দীঘি—ফোঁপরা মহলা ঘাট, হাজার মহাল মৃত সব র‍ূপসীরা: বুকে আজ ভেরেণ্‍ডার ফুলে ভীমরুল গান গায়—পাশ দিয়ে খল্ খল্ খল্ খল্ ব’য়ে যায় খাল, তবু ঘুম ভাঙে নাকো—একবার ঘুমালে কে উঠে আসে আর যদিও ডুকারি যায় শঙ্খচিল—মর্মরিয়া মরে গো মাদার। — রূপসী বাংলা (1957)