মনে হয় প্রাণ এক দূর স্বচ্ছ সাগরের কূলে জন্ম নিয়েছিলো কবে; পিছে মৃত্যুহীন জন্মহীন চিহ্নহীন কুয়াশার যে-ইঙ্গিত ছিলো— সেই সব ধীরে-ধীরে ভুলে গিয়ে অন্য এক মানে পেয়েছিলো এখানে ভূমিষ্ঠ হ’য়ে— আলো জল আকাশের টানে; কেন যেন কাকে ভালোবেসে। মৃত্যু আর জীবনের কালো আর শাদা হৃদয়ে জড়িয়ে নিয়ে যাত্রী মানুষ এসেছে এ-পৃথিবীর দেশে; কঙ্কাল অঙ্গার কালি— চারিদিকে রক্তের ভিতরে অন্তহীন করুণ ইচ্ছার চিহ্ন দেখে পথ চিনে এ-ধুলোয় নিজের জন্মের চিহ্ন চেনাতে এলাম; কাকে তবু? পৃথিবীকে? আকাশকে? আকাশে যে-সূর্য জ্বলে তাকে? ধুলোর কণিকা অণুপরমাণু ছায়া বৃষ্টি জলকণিকাকে? নগর বন্দর রাষ্ট্র জ্ঞান অজ্ঞানের পৃথিবীকে? যেই কুজ্ঝটিকা ছিলো জন্মসৃষ্টির আগে, আর যে-সব কুয়াশা রবে শেষে একদিন তার অন্ধকার অণজ আলোর বলয়ে এসে পড়ে পলে-পলে; নীলিমার দিকে মন যেতে চায় প্রেমে; সনাতন কালো মহাসাগরের দিকে যেতে বলে। তবু আলো পৃথিবীর দিকে সূর্য রোজ সঙ্গে ক’রে আনে যেই ঋতু যেই তিথি যে-জীবন যেই মৃত্যুরীতি মহাইতিহাস এসে এখনও জানেনি যার মানে; সেদিকে যেতেছে লোক গ্লানি প্রেম ক্ষয় নিত্য পদচিহ্নের মতো সঙ্গে ক’রে; নদী আর মানুষের ধাবমান ধূসর হৃদয় রাত্রি পোহালো ভোরে— কাহিনীর কতো শত ভোরে নব সূর্য নব পাখি নব চিহ্ন নগরে নিবাসে; নব-নব যাত্রীদের সাথে মিশে যায় প্রাণলোকযাত্রীদের ভিড়; হৃদয়ে চলার গতি গান আলো রয়েছে, অকূলে মানুষের পটভূমি হয়তো বা শাশ্বত যাত্রীর। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)