ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ-দুপুর—চিল একা নদীটির পাশে জারুল গাছের ডালে ব’সে ব’সে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে; পায়রা গিয়েছে উড়ে চবুতরে, খোপে তার;—শসালতাটিকে ছেড়ে গেছে মৌমাছি;—কালো মেঘ জমিয়াছে মাঘের আকাশে, মরা প্রজাপতিটির পাখার নরম রেণু, ফেলে দিয়ে ঘাসে পিঁপড়েরা চ’লে যায়;—দুই দণ্‍ড আম গাছে শালিখে শালিখে ঝুটোপুটি, কোলাহল—বউকথাকও আর রাঙা বউটিকে ডাকে নাকো—হলুদ পাখনা তার কোন্ যেন কাঁঠালে পলাশে হারায়েছে; বউও উঠানে নাই—প’ড়ে আছে একখানা ঢেঁকি: ধান কে কুটিবে বল—কত দিন সে তো আর কোটে নাকো ধান, রোদেও শ‍ুকাতে সে যে আসে নাকো চুল তার—করে নাকো স্নান এ-পুকুরে—ভাঁড়ারে ধানের বীজ কলায়ে গিয়েছে তার দেখি, তবুও সে আসে নাকো; আজ এ-দুপুরে এসে খই ভাজিবে কি? হে চিল, সোনালি চিল, রাঙা রাজকন্যা আর পাবে না কি প্রাণ? — রূপসী বাংলা (1957)