তোমার বুকের থেকে একদিন চ’লে যাবে তোমার সন্তান বাংলার বুকে ছেড়ে চ’লে যাবে; যে ইঙ্গিতে নক্ষত্রও ঝরে, আকাশের নীলাভ নরম বুকে ছেড়ে দিয়ে হিমের ভিতরে ডুবে যায়,—কুয়াশায় ঝ’রে পড়ে দিকে দিকে র‍ূপশালী ধান একদিন;—হয়তো বা নিমপেঁচা অন্ধকারে গা’বে তার গান, আমারে কুড়ায়ে নেবে মেঠো ইঁদুরের মতো মরণের ঘরে— হৃদয়ে ক্ষুদের গন্ধ লেগে আছে আকাঙ্ক্ষার—তবুও তো চোখের উপরে নীল মৃত্যু উজাগর—বাঁকা চাঁদ, শূন্য মাঠ, শিশিরের ঘ্রাণ— কখন মরণ আসে কে বা জানে—কালীদহে কখন যে ঝড় কমলের নাল ভাঙে—ছিঁড়ে ফেলে গাংচিল শালিখের প্রাণ জানি নাকো;—তবু যেন মরি আমি এই মাঠ-ঘাটের ভিতর, কৃষ্ণা যমুনার নয়—যেন এই গাঙুড়ের ঢেউয়ের আঘ্রাণ লেগে থাকে চোখে মুখে—র‍ূপসী বাংলা যেন বুকের উপর জেগে থাকে; তারি নিচে শ‍ুয়ে থাকি যেন আমি অর্ধনারীশ্বর। — রূপসী বাংলা (1957)