গোলপাতা ছাউনির বুক চুমে নীল ধোঁয়া সকালে সন্ধ্যায় উড়ে যায়—মিশে যায় আমবনে কার্তিকের কুয়াশার সাথে; পুকুরের লাল সর ক্ষীণ ঢেউয়ে বার বার চায় যে জড়াতে করবীর কচি ডাল; চুমো খেতে চায় মাছরাঙাটির পায়; এক-একটি ইঁট ধ্বসে—ডুবজলে ডুব দিয়ে কোথায় হারায় ভাঙা ঘাটলায় এই—আজ আর কেউ এসে চাল-ধোয়া হাতে বিনুনি খসায় নাকো—শুকনো পাতা সারা দিন থাকে যে গড়াতে; কড়ি খেলিবার ঘর মজে গিয়ে গোখুরার ফাটলে হারায়; ডাইনীর মতো হাত তুলে তুলে ভাঁট আঁশশ্যাওড়ার বন বাতাসে কি কথা কয় বুঝি নাকো,—বুঝি নাকো চিল কেন কাঁদে; পৃথিবীর কোনো পথে দেখি নাই আমি, হায়, এমন বিজন শাদা পথ—সোঁদা পথ—বাঁশের ঘোমটা মুখে বিধবার ছাঁদে চ’লে গেছে—শ্মশানের পায়ে বুঝি;—সন্ধ্যা আসে সহসা কখন; সজিনার ডালে পেঁচা কাঁদে নিম—নিম—নিম কার্তিকের চাঁদে। — রূপসী বাংলা (1957)