পৃথিবী প্রবীণ আরো হ’য়ে যায় মিরুজিন নদীটির তীরে; বিবর্ণ প্রাসাদ তার ছায়া ফেলে জলে। ও-প্রাসাদে কারা থাকে? কেউ নেই— সোনালি আগুন চুপে জলের শরীরে নড়িতেছে— জ্বলিতেছে— মায়াবীর মতো জাদুবলে। সে-আগুন জ্ব’লে যায়— দহেনাকো কিছু।     সে-আগুন জ্ব’লে যায়     সে-আগুন জ্বলে’ যায় সে-আগুন জ্ব’লে যায় দহেনাকো কিছু। নিমীল আগুনে ওই আমার হৃদয়     মৃত এক সারসের মতো।     পৃথিবীর রাজহাঁস নয়—     নিবিড় নক্ষত্র থেকে যেন সমাগত সন্ধ্যার নদীর জলে এক ভিড় হাঁস ওই— একা; এখানে পেল না কিছু; করুণ পাখায় তাই তা’রা চলে যায় শাদা, নিঃসহায়। মূল সারসের সাথে হ’লো মুখ দেখা। ২ রাত্রির সংকেতে নদী যতদূর ভেসে যায়— আপনার অভিজ্ঞান নিয়ে     আমারো নৌকার বাতি জ্বলে; মনে হয় এইখানে লোকশ্রুত আমলকী পেয়ে গেছি     আমার নিবিষ্ট করতলে; সব কেরোসিন-অগ্নি ম’রে গেছে; জলের ভিতরে আভা দ’হে যায়     মায়াবীর মতো জাদুবলে। পৃথিবীর সৈনিকেরা ঘুমায়েছে বিম্বিসার রাজার ইঙ্গিতে     ঢের দূর ভূমিকার পর; সত্য সারাংসার মূর্তি সোনার বৃষের ’পরে ছুটে সারাদিন     হ’য়ে গেছে এখন পাথর; যে-সব যুবারা সিংহীগর্ভে জ’ন্মে পেয়েছিলো কৌটিল্যের সংযম     তারাও মরেছে— আপামর। যেন সব নিশিডাকে চ’লে গেছে নগরীকে শূন্য ক’রে দিয়ে—     সব ক্বাথ বাথরুমে ফেলে; গভীর নিসর্গ সাড়া দিয়ে শ্রুতি বিস্মৃতির নিস্তব্ধতা ভেঙে দিতো তবু     একটি মানুষ কাছে পেলে; যে-মুকুর পারদের ব্যবহার জানে শুধু, যেই দীপ প্যারাফিন,     বাটা মাছ ভাজে যেই তেলে, সম্রাটের সৈনিকেরা যে-সব লাবণি, লবণরাশি খাবে জেগে উঠে’,     অমায়িক কুটুম্বিনী জানে; তবুও মানুষ তার বিছানায় মাঝরাতে নৃমুণ্ডের হেঁয়ালিকে     আঘাত করিবে কোন্‌খানে? হয়তো নিসর্গ এসে একদিন ব’লে দেবে কোনো এক সম্রাজ্ঞীকে     জলের ভিতরে এই অগ্নির মানে। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)