একদিন পৃথিবীর পথে আমি ফলিয়াছি; আমার শরীর নরম ঘাসের পথে হাঁটিয়াছে; বসিয়াছে ঘাসে দেখিয়াছে নক্ষত্রেরা জোনাকিপোকার মতো কৌতুকের অমেয় আকাশে খেলা করে; নদীর জলের গন্ধে ভ’রে যায় ভিজে স্নিগ্ধ তীর অন্ধকারে; পথে পথে শব্দ পাই কাহাদের নরম শাড়ির, ম্লান চুল দেখা যায়; সান্ত্বনার কথা নিয়ে কারা কাছে আসে— ধূসর কড়ির মতো হাতগুলো—নগ্ন হাত সন্ধ্যার বাতাসে দেখা যায়; হলুদ ঘাসের কাছে মরা হিম প্রজাপতিটির সুন্দর করুণ পাখা প’ড়ে আছে—দেখি আমি; চুপে থেমে থাকি; আকাশে কমলা রঙ্ ফুটে ওঠে সন্ধ্যায়—কাকগুলো নীল মনে হয়; অনেক লোকের ভিড়ে ডুবে যাই—কথা কই—হাতে হাত রাখি; করুণ বিষণ্ন চুলে কার যেন কোথাকার গভীর বিস্ময় লুকায়ে রয়েছে বুঝি;... নক্ষত্রের নিচে আমি ঘুমাই একাকী; পেঁচার ধূসর ডানা সারারাত জোনাকির সাথে কথা কয়। — রূপসী বাংলা (1957)