এই ডাঙা ছেড়ে হায় রূপ কে খুঁজিতে যায় পৃথিবীর পথে। বটের শ‍ুকনো পাতা যেন এক যুগান্তের গল্প ডেকে আনে: ছড়ায়ে র’য়েছে তারা প্রান্তরের পথে পথে নির্জন অঘ্রাণে;— তাদের উপেক্ষা ক’রে কে যাবে বিদেশে বল—আমি কোনো-মতে বাসমতী ধানক্ষেত ছেড়ে দিয়ে মালাবারে—উটির পর্বতে যাব নাকো;—দেখিব না পামগাছ মাথা নাড়ে সমুদ্রের গানে কোন্ দেশে,—কোথায় এলাচিফুল দারুচিনি বারুণীর প্রাণে বিনুনি খসায়ে ব’সে থাকিবার স্বপ্ন আনে;—পৃথিবীর পথে যাব নাকো:অশ্বত্থের ঝরাপাতা ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর, যখন এ-দু’-পহরে কেউ নাই কোনো দিকে—পাখিটিও নাই, অবিরল ঘাস শুধু, ছড়ায়ে র’য়েছে মাটি কাঁকরের ’পর, খড়কুটো উল্টায়ে ফিরিতেছে দ’-একটা বিষণ্ণ চড়াই, অশ্বত্থের পাতাগ‍ুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর; এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই। — রূপসী বাংলা (1957)