পেঁচার ধূসর পাখা উড়ে যায় নক্ষত্রের পানে— জলা মাঠ ছেড়ে দিয়ে চাঁদের আহ্বানে বুনো হাঁস পাখা মেলে— সাঁই-সাঁই শব্দ শুনি তার; এক— দুই— তিন— চার— অজস্র— অপার— রাত্রির কিনার দিয়ে তাহাদের ক্ষিপ্র ডানা ঝাড়া এঞ্জিনের মতো শব্দে; ছুটিতেছে— ছুটিতেছে তা’রা। তারপর প’ড়ে থাকে নক্ষত্রের বিশাল আকাশ, হাঁসের গায়ের ঘ্রাণ— দু-একটা কল্পনার হাঁস; মনে পড়ে কবেকার পাড়াগাঁর অরুণিমা সান্যালের মুখ; উড়ুক উড়ুক তা’রা পউষের জ্যোৎস্নায় নীরবে উড়ুক কল্পনার হাঁস সব; পৃথিবীর সব ধ্বনি সব রং মুছে গেলে পর উড়ুক উড়ুক তা’রা হৃদয়ের শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতর। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)