আমাদের রূঢ় কথা শুনে তুমি সরে যাও আরো দূরে বুঝি নীলাকাশ; তোমার অনন্ত নীল সোনালি ভোমরা নিয়ে কোনো দূর শান্তির ভিতরে ডুবে যাবে?... কত কাল কেটে গেল, তবু তার কুয়াশার পর্দা না স’রে পিরামিড্ বেবিলন শেষ হ’ল—ঝ’রে গেল কতবার প্রান্তরের ঘাস; তবুও লুকায়ে আছে যেই রূপ নক্ষত্রে তা’ কোনোদিন হ’ল না প্রকাশ; যেই স্বপ্ন যেই সত্য নিয়ে আজ আমরা চলিয়া যাই ঘরে, কোনো এক অন্ধকারে হয়তো তা’ আকাশের যাযাবর মরালের স্বরে নতুন স্পন্দন পায়—নতুন আগ্রহে গন্ধে ভ’রে ওঠে পৃথিবীর শ্বাস; তখন আমরা অই নক্ষত্রের দিকে চাই—মনে হয় সব অস্পষ্টতা ধীরে ধীরে ঝরিতেছে,—যেই রূপ কোনোদিন দেখি নাই পৃথিবীর পথে, যেই শান্তি মৃত জননীর মতো চেয়ে থাকে—কয় নাকো কথা, যেই স্বপ্ন বার বার নষ্ট হয় আমাদের এই সত্য রক্তের জগতে, আজ যাহা ক্লান্ত ক্ষীণ আজ যাহা নগ্ন চূর্ণ—অন্ধ মৃত হিম, একদিন নক্ষত্রের দেশে তারা হয়ে র’বে গোলাপের মতন রক্তিম৷ — রূপসী বাংলা (1957)