Poetry
কোন অভিশাপ নিয়ে এল এই
কোন অভিশাপ নিয়ে এল এই বিরহ বিধুর-আষাঢ় এখানে বুঝি বা শেষ হয়ে গেছে উচ্ছল ভালবাসার। বিরহী যক্ষ রামগিরি হতে পাঠাল বারতা জলদের স্রোতে প্রিয়ার কাছেতে জানাতে চাহিল সব শেষ সব আশার আমার হৃদয়ে এল বুঝি সেই মেঘ, সেই বিহবল পর্বত...
বাঁচান বাঁচি মারেন মরি
বাঁচান বাঁচি মারেন মরি। বল ভাই ধন্য হরি। ধন্য হরি ভবের নাটে, ধন্য হরি রাজ্য পাটে, ধন্য হরি শ্মশান ঘাটে ধন্য হরি ধন্য হরি। সুধা দিয়ে মাতান যখন ধন্য হরি ধন্য হরি, ব্যথা দিয়ে কাঁদান যখন ধন্য হরি ধন্য হরি। আত্মজনের কোলে বু...
বসন্তের আসরে ঝড়
বসন্তের আসরে ঝড় যখন ছুটে আসে মুকুলগুলি না পায় ডর, কচি পাতারা হাসে। কেবল জানে জীর্ণ পাতা ঝড়ের পরিচয়— ঝড় তো তারি মুক্তিদাতা, তারি বা কিসে ভয়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও
মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও, কণ্টকপথ অকুণ্ঠপদে মাড়াও, ছিন্ন পতাকা ধূলি হতে লও তুলি। রুদ্রের হাতে লাভ করো শেষ বর, আনন্দ হোক দুঃখের সহচর, নিঃশেষ ত্যাগে আপনারে যাও ভুলি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
রাজার ছেলে ও রাজার মেয়ে
(রূপকথা।) ১ প্রভাতে। রাজার ছেলে যেত পাঠশালায়, রাজার মেয়ে যেত তথা। দু’জনে দেখা হত পথের মাঝে, কে জানে কবেকার কথা! রাজার মেয়ে দূরে সরে’ যেত, চুলের ফুল তার পড়ে’ যেত, রাজার ছেলে এসে তুলে দিত ফুলের সাথে বনলতা। রাজার ছেলে য...
চলিতে চলিতে চরণে উছলে
চলিতে চলিতে চরণে উছলে চলিবার ব্যাকুলতা— নূপুরে নূপুরে বাজে বনতলে মনের অধীর কথা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
এই দুয়ারটি খোলা
এই দুয়ারটি খোলা। আমার খেলা খেলবে ব’লে আপনি হেথায় আস চলে ওগো আপন-ভোলা। ফুলের মালা দোলে গলে, পুলক লাগে চরণতলে কাঁচা নবীন ঘাসে। এস আমার আপন ঘরে, বস আমার আসন-’পরে লহ আমায় পাশে। এমনিতরো লীলার বেশে যখন তুমি দাঁড়াও এসে, দাও...
শিকড় ভাবে, “সেয়ানা আমি
শিকড় ভাবে, “সেয়ানা আমি, অবোধ যত শাখা। ধূলি ও মাটি সেই তো খাঁটি, আলোকলোক ফাঁকা।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
চাই গো আমি তোমারে চাই
চাই গো আমি তোমারে চাই তোমায় আমি চাই— এই কথাটি সদাই মনে বল্তে যেন পাই। আর যা কিছু বাসনাতে ঘুরে বেড়াই দিনে রাতে মিথ্য সে সব মিথ্যা, ওগো তোমায় আমি চাই। রাত্রি যেমন লুকিয়ে রাখে আলোর প্রার্থনাই— তেমন গভীর মোহের মাঝে তোমা...
এখানে আকাশ নীল—নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল
এখানে আকাশ নীল—নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল ফুটে থাকে হিম শাদা—রং তার আশ্বিনের আলোর মতন; আকন্দফুলের কালো ভীমরূল এইখানে করে গুঞ্জরণ রৌদ্রের দুপুর ভ’রে;—বার বার রোদ তার সুচিক্কণ চুল কাঁঠাল জামের বুকে নিঙড়ায়;—দহে বিলে চঞ...
তোমার দয়া যদি
তোমার দয়া যদি চাহিতে নাও জানি তবুও দয়া করে চরণে নিয়ো টানি। আমি যা গড়ে তুলে আরামে থাকি ভুলে সুখের উপাসনা করিগো ফলে ফুলে- সে ধূলা-খেলাঘরে রেখোনা ঘৃণা ভরে, জাগায়ো দয়া করে বহ্নি-শেল হানি। সত্য মুদে আছে দ্বিধার মাঝখানে;...