সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন
সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন শাল-পিয়ালের বন, তারই অভিাস দিল আমায় হঠাৎ সমীরণ। কুটির ছেড়ে বাইরে এসে দেখি আকাশকোণে তারার লেখালেখি শুরু হয়ে গেছে বহুক্ষণ। আজকে আমার মনের কোণে কে দিল যে গান, ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠি রোমাঞ্চিত প্রাণ।...
সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন শাল-পিয়ালের বন, তারই অভিাস দিল আমায় হঠাৎ সমীরণ। কুটির ছেড়ে বাইরে এসে দেখি আকাশকোণে তারার লেখালেখি শুরু হয়ে গেছে বহুক্ষণ। আজকে আমার মনের কোণে কে দিল যে গান, ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠি রোমাঞ্চিত প্রাণ।...
তোমার ইঙ্গিতখানি দেখি নি যখন ধূলিমুষ্টি ছিল তারে করিয়া গোপন। যখনি দেখেছি আজ তখনি পুলকে নিরখি ভুবনময় আঁধারে আলোকে জ্বলে সে ইঙ্গিত; শাখে শাখে ফুলে ফুলে ফুটে সে ইঙ্গিত; সমুদ্রের কূলে কূলে ধরিত্রীর তটে তটে চিহ্ন আঁকি ধায়...
সব চেয়ে ভক্তি যার অস্ত্রদেবতারে অস্ত্র যত জয়ী হয় আপনি সে হারে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
এবার নীরব করে দাওহে তোমার মুখর কবিরে। তার হৃদয়-বাঁশি আপনি কেড়ে বাজাও গভীরে। নিশীথ রাতের নিবিড় সুরে, বাঁশিতে তান দাওহে পূরে, যে তান দিয়ে অবাক কর গ্রহ শশীরে। যা কিছু মোর ছড়িয়ে আছে জীবন মরণে গানের টানে মিলুক এসে তোমার...
পাঠাইলে আজি মৃত্যুর দূত আমার ঘরের দ্বারে, তব আহ্বান করি সে বহন পার হয়ে এল পারে। আজি এ রজনী তিমির-আঁধার, ভয়ভারাতুর হৃদয় আমার, তবু দীপ হাতে খুলি দিয়া দ্বার নমিয়া লইব তারে। পাঠাইলে আজি মৃত্যুর দূত আমার ঘরের দ্বারে। পূজ...
মধ্যাহ্নে নগর-মাঝে পথ হতে পথে কর্মবন্যা ধায় যবে উচ্ছলিত স্রোতে শত শাখা-প্রশাখায়— নগরের নাড়ী উঠে স্ফীত তপ্ত হয়ে, নাচে সে আছাড়ি পাষাণভিওির ’পরে— চৌদিকে আকুলি ধায় পান্থ, ছুটে রথ, উড়ে শুষ্ক ধুলি তখন সহসা হেরি মুদিয়া...
বাতাসে নিবিলে দীপ দেখা যায় তারা, আঁধারেও পাই তবে পথের কিনারা। সুখ-অবসানে আসে সম্ভোগের সীমা, দুঃখ তবে এনে দেয় শান্তির মহিমা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)