Poetry
নামাও নামাও আমায় তোমার
নামাও নামাও আমায় তোমার চরণ-তলে, গলাও হে মন, ভাসাও জীবন নয়ন-জলে। এক আমি অহঙ্কারের উচ্চ অচলে, পাষাণ আসন ধূলায় লুটাও ভাঙ সবলে। নামাও নামাও আমায় তোমার চরণ-তলে। কি লয়ে বা গর্ব্ব করি ব্যর্থ জীবনে! ভরা গৃহে শূন্য আমি তোমা...
যেতে নাহি দিব
দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি; বেলা দ্বিপ্রহর; হেমন্তের রৌদ্র ক্রমে হতেছে প্রখর; জনশূন্য পল্লিপথে ধূলি উড়ে যায় মধ্যাহ্ন বাতাসে; স্নিগ্ধ অশত্থের ছায় ক্লান্ত বৃদ্ধা ভিখারিণী জীর্ণ বস্ত্র পাতি’ ঘুমায়ে পড়েছে; যেন রৌদ্রময়ী বাত...
তোমরা এবং আমরা
তোমরা হাসিয়া বহিয়া চলিয়া যাও কুলুকুলুকল নদীর স্রোতের মত। আমরা তীরেতে দাঁড়ায়ে চাহিয়া থাকি, মরমে গুমরি মরিছে কামনা কত। আপনা আপনি কানাকানি কর সুখে, কৌতুকছটা উছলিছে চোখে মুখে, কমলচরণ পড়িছে ধরণী মাঝে, কনক নূপুর রিনিকি...
কথা চাই, কথা চাই, হাঁকে
কথা চাই, কথা চাই, হাঁকে কথার বাজারে; কথাওয়ালা আসে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজারে হাজারে। প্রাণে তোর বাণী যদি থাকে মৌনে ঢাকিয়া রাখ্ তাকে মুখর এ হাটের মাঝারে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
ডুবারি যে সে কেবল
ডুবারি যে সে কেবল ডুব দেয় তলে। যেজন পারের যাত্রী সেই ভেসে চলে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আকাশের চাঁদ
হাতে তুলে দাও আকাশের চাঁদ— এই হ’ল তার বুলি। দিবস রজনী যেতেছে বহিয়া, কাঁদে সে দু’হাত তুলি’। হাসিছে আকাশ, বহিছে বাতাস, পাখীরা গাহিছে সুখে। সকালে রাখাল চলিয়াছে মাঠে, বিকালে ঘরের মুখে। বালক বালিকা ভাই বোনে মিলে খেলিছে আঙ্গ...