Poetry
নূতন যুগের প্রত্যুষে কোন্
নূতন যুগের প্রত্যুষে কোন্ প্রবীণ বুদ্ধিমান নিত্যই শুধু সূক্ষ্ম বিচার করে— যাবার লগ্ন, চলার চিন্তা নিঃশেষে করে দান সংশয়ময় তলহীন গহ্বরে। নির্ঝর যথা সংগ্রামে নামে দুর্গম পর্বতে, অচেনার মাঝে ঝাঁপ দিয়ে পড়্ দুঃসাহসের পথে...
সূর্য-প্রণাম
সূর্য-প্রণাম উদয়াচল আগমনী সমবেত গান পুব সাগরের পার হতে কোন পথিক তুমি উঠলে হেসে, তিমির ভেদি ভুবন-মোহন আলোর বেশে। ওগো পথিক, তোমার আলোয় ঘুচুক জরা ছন্দে নাচুক বসুন্ধর॥ গগনপথে যাত্রা তোমার নিরুদেশে। তুমি চিরদিনের দোলে দোল...
ওড়ার আনন্দে পাখি
ওড়ার আনন্দে পাখি শূন্যে দিকে দিকে বিনা অক্ষরের বাণী যায় লিখে লিখে। মন মোর ওড়ে যবে জাগে তার ধ্বনি, পাখার আনন্দ সেই বহিল লেখনী। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
ব্যর্থ যৌবন
আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তার কেমনে? কেন নয়নের জল ঝরিছে বিফল নয়নে? এ বেশ ভূষণ লহ সখি লহ, এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ, এমন যামিনী কাটিল, বিরহ- শয়নে! আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তার কেমনে? আমি বৃথা অভিসারে এ যমুনা পারে এসেছি! বহি’...
গিরিবক্ষ হতে আজি
গিরিবক্ষ হতে আজি ঘুচুক কুজ্ঝটি-আবরণ, নূতন প্রভাতসূর্য এনে দিক্ নবজাগরণ। মৌন তার ভেঙে যাক, জ্যোতির্ময় ঊর্ধ্ব লোক হতে বাণীর নির্ঝরধারা প্রবাহিত হোক শতস্রোতে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পৃথিবীতে এই
পৃথিবীতে এই জন্মলাভ তবু ভালো; ভূমিষ্ঠ হবার পরে যদিও ক্রমেই মনে হয় কোনো এক অন্ধকার স্তব্ধ সৈকতের বিন্দুর ভেতর থেকে কোনো অন্য দূর স্থির বলয়ের চিহ্ন লক্ষ্য ক’রে দুই শব্দহীন শেষ সাগরের মাঝখানে কয়েক মুহূর্ত এই সূর্যের আলো।...
আমার এ গান ছেড়েছে তার
আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলঙ্কার তোমার কাছে রাখেনি আর সাজের অহঙ্কার! অলঙ্কার যে মাঝে পড়ে, মিলনেতে আড়াল করে, তোমার কথা ঢাকে যে তার মুখর ঝঙ্কার। তোমার কাছে খাটে না মোর কবির গরব করা, মহাকবি, তোমার পায়ে দিতে চাই যে ধরা...
তুমি মোরে অর্পিয়াছ যত অধিকার
তুমি মোরে অর্পিয়াছ যত অধিকার ক্ষুণ্ন না করিয়া কভু কণামাত্র তার সম্পূর্ণ সঁপিয়া দিব তোমার চরণে অকুণ্ঠিত রাখি তারে বিপদে মরণে। জীবন সার্থক হবে তবে। চিরদিন জ্ঞান যেন থাকে মুক্ত শৃঙ্খলবিহীন। ভক্তি যেন ভয়ে নাহি হয় পদানত...