আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তার        কেমনে? কেন নয়নের জল ঝরিছে বিফল        নয়নে?     এ বেশ ভূষণ লহ সখি লহ,     এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ,     এমন যামিনী কাটিল, বিরহ-        শয়নে! আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তার        কেমনে? আমি বৃথা অভিসারে এ যমুনা পারে        এসেছি! বহি’ বৃথা মনো-আশা এত ভালবাসা        বেসেছি!     শেষে নিশিশেষে বদন মলিন,     ক্লান্ত চরণ, মন উদাসীন,     ফিরিয়া চলেছি কোন্ সুখহীন        ভবনে? হায়, যে রজনী যায় ফিরাইব তার        কেমনে? কত উঠেছিল চাঁদ নিশীথ-অগাধ        আকাশে! বনে দুলেছিল ফুল গন্ধ-ব্যাকুল        বাতাসে!     তরু-মর্ম্মর, নদী কলতান     কানে লেগেছিল স্বপ্ন সমান,     দুর হতে আসি পশেছিল গান        শ্রবণে, আজি সে রজনী যায় ফিরাইব তায়        কেমনে? মনে লেগেছিল হেন আমারে সে যেন        ডেকেছে। যেন চির যুগ ধরে’ মোরে মনে করে’        রেখেছে!     সে আনিবে বহি ভরা অনুরাগ,     যৌবন নদী করিবে সজাগ,     আসিবে নিশীথে, বাঁধিবে সোহাগ-        বাঁধনে। আহা, সে রজনী যায়, ফিরাইব তায়        কেমনে? ওগো, ভোলা, ভাল তবে, কাঁদিয়া কি হবে        মিছে আর? যদি যেতে হল হায়, প্রাণ কেন চায়        পিছে আর?     কুঞ্জদুয়ারে অবোধের মত     রজনী-প্রভাতে বসে রব কত!     এবারের মত বসন্ত-গত        জীবনে। হায় যে রজনী যায় ফিরাইব তায়        কেমনে! ১৬ আষাঢ়, ১৩০০। — সোনার তরী (1894)