বনে ও রাজ্যে
সারাদিন কাটাইয়া সিংহাসন-’পরে সন্ধ্যায় পশিলা রাম শয়নের ঘরে। শয্যার আধেক অংশ শূন্য বহুকাল, তারি ’পরে রাখিলেন পরিশ্রান্ত ভাল। দেবশূন্য দেবালয়ে ভক্তের মতন বসিলেন ভূমি-’পরে সজল নয়ন; কহিলেন নতজানু কাতর নিশ্বাসে, ‘যতদিন দী...
সারাদিন কাটাইয়া সিংহাসন-’পরে সন্ধ্যায় পশিলা রাম শয়নের ঘরে। শয্যার আধেক অংশ শূন্য বহুকাল, তারি ’পরে রাখিলেন পরিশ্রান্ত ভাল। দেবশূন্য দেবালয়ে ভক্তের মতন বসিলেন ভূমি-’পরে সজল নয়ন; কহিলেন নতজানু কাতর নিশ্বাসে, ‘যতদিন দী...
[পাত্র-পাত্রী: ইন্দ্র, ব্রহ্মা, নারদ, অগ্নি, বরুণ ও পবন] ইন্দ্র: কি ব্যাপার? ব্রহ্মা: আমার এত কষ্টের ব্রহ্মাণ্ডটা বোধহয় ছারখার হয়ে গেল। হায়—হায়—হায়! নারদ: মানুষের হাত থেকে স্বর্গের আর নিস্তার নেই মহারাজ, সর্বনাশ হয়...
অনেক গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হল, ব্যর্থ বহু উদ্যম আমার, নদীতে জেলেরা ব্যর্থ, তাঁতী ঘরে, নিঃশব্দ কামার, অর্ধেক প্রাসাদ তৈরী, বন্ধ ছাদ-পেটানোর গান, চাষীর লাঙল ব্যর্থ, মাঠে নেই পরিপূর্ণ ধান। যতবার গড়ে তুলি, ততবার চকিত বন্যায়...
ফসলের ডাকঃ ১৩৫১ কাস্তে দাও আমার এ হাতে সোনালী সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে। শক্তির উন্মুক্ত হাওয়া আমার পেশীতে স্নায়ুতে স্নায়ুতে দেখি চেতনার বিদ্যুৎ বিকাশ: দু’পায়ে অস্থির আজ বলিষ্ঠ কদম; কাস্তে দাও আমার এ হাতে। দু’চোখে...
শ্যামল ঘন বকুলবন- ছায়ে ছায়ে যেন কী সুর বাজে মধুর পায়ে পায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পৃথিবী রয়েছে ব্যস্ত কোনখানে সফলতা শক্তির ভিতর, কোনখানে আকাশের গায়ে রূঢ় মনুমেণ্ট উঠিতেছে জেগে, কোথায় মাস্তুল তুলে জাহাজের ভিড় সব লেগে আছে মেঘে, জানি নাকো;―আমি এই বাংলার পাড়াগাঁয়ে বাঁধিয়াছি ঘর: সন্ধ্যায় যে দাঁড়ক...
পুরানো কালের কলম লইয়া হাতে লিখি নিজ নাম নূতন কালের পাতে। নবীন লেখক তারি ’পরে দিনরাতি লেখে নানামতে আপন নামের পাঁতি। নূতনে পুরাণে মিলায়ে রেখার পাকে কালের খাতায় সদা হিজিবিজি আঁকে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
শেষের মধ্যে অশেষ আছে, এই কথাটি, মনে আজ্কে আমার গানের শেষে জাগ্চে ক্ষণে ক্ষণে। সুর গিয়েছে থেমে, তবু থাম্তে যেন চায় না কভু, নীরবতায় বাজ্চে বীণা বিনা প্রয়োজনে। তারে যখন আঘাত লাগে বাজে যখন সুরে- সবার চেয়ে বড় যে গান...