Poetry
ফসলের ডাক: ১৩৫১
ফসলের ডাকঃ ১৩৫১ কাস্তে দাও আমার এ হাতে সোনালী সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে। শক্তির উন্মুক্ত হাওয়া আমার পেশীতে স্নায়ুতে স্নায়ুতে দেখি চেতনার বিদ্যুৎ বিকাশ: দু’পায়ে অস্থির আজ বলিষ্ঠ কদম; কাস্তে দাও আমার এ হাতে। দু’চোখে...
শ্যামল ঘন বকুলবন
শ্যামল ঘন বকুলবন- ছায়ে ছায়ে যেন কী সুর বাজে মধুর পায়ে পায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পৃথিবী রয়েছে ব্যস্ত কোনখানে সফলতা শক্তির ভিতর
পৃথিবী রয়েছে ব্যস্ত কোনখানে সফলতা শক্তির ভিতর, কোনখানে আকাশের গায়ে রূঢ় মনুমেণ্ট উঠিতেছে জেগে, কোথায় মাস্তুল তুলে জাহাজের ভিড় সব লেগে আছে মেঘে, জানি নাকো;―আমি এই বাংলার পাড়াগাঁয়ে বাঁধিয়াছি ঘর: সন্ধ্যায় যে দাঁড়ক...
পুরানো কালের কলম লইয়া হাতে
পুরানো কালের কলম লইয়া হাতে লিখি নিজ নাম নূতন কালের পাতে। নবীন লেখক তারি ’পরে দিনরাতি লেখে নানামতে আপন নামের পাঁতি। নূতনে পুরাণে মিলায়ে রেখার পাকে কালের খাতায় সদা হিজিবিজি আঁকে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
শেষের মধ্যে অশেষ আছে
শেষের মধ্যে অশেষ আছে, এই কথাটি, মনে আজ্কে আমার গানের শেষে জাগ্চে ক্ষণে ক্ষণে। সুর গিয়েছে থেমে, তবু থাম্তে যেন চায় না কভু, নীরবতায় বাজ্চে বীণা বিনা প্রয়োজনে। তারে যখন আঘাত লাগে বাজে যখন সুরে- সবার চেয়ে বড় যে গান...
হিমাদ্রির ধ্যানে যাহা
হিমাদ্রির ধ্যানে যাহা স্তব্ধ হয়ে ছিল রাত্রিদিন, সপ্তর্ষির দৃষ্টিতলে বাক্যহীন শুভ্রতায় লীন, সে তুষারনির্ঝরিণী রবিকরস্পর্শে উচ্ছ্বসিতা দিগ্ দিগন্তে প্রচারিছে অন্তহীন আনন্দের গীতা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
ভজনমন্দিরে তব
ভজনমন্দিরে তব পূজা যেন নাহি রয় থেমে, মানুষে কোরো না অপমান। যে-ঈশ্বরে ভক্তি কর, হে সাধক, মানুষের প্রেমে তাঁরি প্রেম করো সপ্রমাণ। — স্ফুলিঙ্গ (1945)