দেবী চৌধুরাণী — পাঠভেদ
‘দেবী চৌধুরাণী’র বিভিন্ন সংস্করণের পাঠভেদ ‘দেবী চৌধুরাণী’ ‘বঙ্গদর্শনে’র ৯৯ সংখ্যায় (পৌষ, ১২৮৯) সুরু হইয়া ১০৬ সংখ্যা (মাঘ, ১২৯০) পর্যন্ত অংশতঃ প্রকাশিত হয়। ১০৬ সংখ্যার পর বঙ্কিম-যুগের ‘বঙ্গদর্শন’ আর বাহির হয় নাই বলিয়...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
‘দেবী চৌধুরাণী’র বিভিন্ন সংস্করণের পাঠভেদ ‘দেবী চৌধুরাণী’ ‘বঙ্গদর্শনে’র ৯৯ সংখ্যায় (পৌষ, ১২৮৯) সুরু হইয়া ১০৬ সংখ্যা (মাঘ, ১২৯০) পর্যন্ত অংশতঃ প্রকাশিত হয়। ১০৬ সংখ্যার পর বঙ্কিম-যুগের ‘বঙ্গদর্শন’ আর বাহির হয় নাই বলিয়...
কয়েক মাস থাকিয়া সাগর দেখিল, প্রফুল্ল যাহা বলিয়াছিল, তাহা করিল। সংসারের সকলকে সুখী করিল। শাশুড়ী প্রফুল্ল হইতে এত সুখী যে, প্রফুল্লের হাতে সমস্ত সংসারের ভার দিয়া, তিনি কেবল সাগরের ছেলে কোলে করিয়া বেড়াইতেন। ক্রমে শ্ব...
প্রফুল্ল সাগরকে দেখিতে চাহিল। ব্রজেশ্বরের ইঙ্গিত পাইয়া গিন্নী সাগরকে আনিতে পাঠাইলেন। গিন্নীরও সাধ, তিনটি বৌ একত্র করেন। যে লোক সাগরকে আনিতে গিয়াছিল, তাহার মুখে সাগর শুনিল, স্বামী, আর একটা বিবাহ করিয়া আনিয়াছেন—বুড়ো ম...
ভূতনাথের ঘাটে প্রফুল্লের বজরা ভিড়িবামাত্র, কে জানে কোথা দিয়া, গ্রামময় রাষ্ট্র হইল যে, ব্রজেশ্বর আবার একটা বিয়ে করে এনেছে; বড় না কি ধেড়ে বৌ। সুতরাং ছেলে বুড়ো, কাণা খোঁড়া যে যেখানে ছিল, সব বৌ দেখিতে ছুটিল। যে রাঁধি...
তখন ভূতনাথে যাইবার উদ্যোগ আরম্ভ হইল। রঙ্গরাজকে সেইখান হইতে বিদায় দিবার কথা স্থির হইল। কেন না, ব্রজেশ্বরের দ্বারবানেরা এক দিন তাহার লাঠি খাইয়াছিল, যদি দেখিতে পায়, তবে চিনিবে। রঙ্গরাজকে ডাকিয়া সকল কথা বুঝাইয়া দেওয়া হ...
এ দিকে পথ সাফ দেখিয়া, ব্রজেশ্বর ধীরে ধীরে দেবীর কাছে আসিয়া বসিলেন। দেবী বলিল, “ভাল হইল, দেখা দিলে। তোমার কথা ভিন্ন আজিকার কাজ হয় না। তুমি প্রাণ রাখিতে হুকুম দিয়াছিলে, তাই প্রাণ রাখিয়াছি। দেবী মরিয়াছে, দেবী চৌধুরাণী...
ঝড় থামিল; নৌকাও থামিল। দেবী বজরার জানেলা হইতে দেখিতে পাইলেন, প্রভাত হইতেছে। বলিলেন, “নিশি। আজ সুপ্রভাত!” নিশি বলিল, “আমি আজ সুপ্রভাত!” দিবা। তুমি অবসান, আমি সুপ্রভাত! নিশি। যে দিন আমার অবসান হইবে, সেই দিনই আমি সুপ্রভাত...
বজরা জলের রাশি ভাঙ্গিয়া, দুলিতে দুলিতে নক্ষত্র-বেগে ছুটিল। শব্দ ভয়ানক। বজরার মুখে কৃত্ত তরঙ্গরাশির গর্জ্জন ভয়ানক—ঝড়ের শব্দ ভয়ানক। কিন্তু নৌকার গঠন অনুপম, নাবিকদিগের দক্ষতা ও শিক্ষা প্রসিদ্ধ। নৌকা এই ঝড়ের মুখে চারিখ...
বস্তুতঃ হরবল্লভ রায় মহাশয় যুদ্ধক্ষেত্রেই উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সে ইচ্ছাপূর্ব্বক নহে, ঘটনাধীন। প্রথমে বড় ঘেঁসেন নাই। “শৃঙ্গিণাং শস্ত্রপাণীনাং” ইত্যাদি চাণক্যপ্রদত্ত সদুপদেশ স্মরণ করিয়া, তিনি সিপাহীদিগের ছিপে উঠেন নাই।...
এ দিকে ভবানী ঠাকুরকে বিদায় দিয়া, রঙ্গরাজ শাদা নিশান হাতে করিয়া, জলে নামিয়া লেফ্টেনাণ্ট্ সাহেবের ছিপে গিয়া উঠিল। শাদা নিশান হাতে দেখিয়া কেহ কিছু বলিল না। সে ছিপে উঠিলে, সাহেব তাহাকে বলিলেন, “তোমরা শাদা নিশান দেখাইয...
পিপীলিকাশ্রেণীবৎ বর্কন্দাজের দল ত্রিস্রোতার তীর-বন সকল হইতে বাহির হইতে লাগিল। মাথায় লাল পাগড়ী, মালকোঁচা মারা, খালি পা—জলে লড়াই করিতে হইবে বলিয়া কেহ জুতা আনে নাই। সবার হাতে ঢাল সড়্কি—কাহারও কাহারও বন্দুক আছে—কিন্তু...
দেবী ডাকিল, “নিশি!” নিশি ছাদের উপর আসিল। দেবী। কার ভেরী ঐ? নিশি। যেন দাড়ি বাবাজীর বলিয়া বোধ হয়। দেবী। রঙ্গরাজের? নিশি। সেই রকম। দেবী। সে কি? আমি রঙ্গরাজকে প্রাতে দেবীগড় পাঠাইয়াছি। নিশি। বোধ হয়, পথ হইতে ফিরিয়া আসিয...