যাত্রী আমি ওরে। পারবেনা কেউ রাখতে আমায় ধরে।   দুঃখসুখের বাঁধন সবই মিছে,   বাঁধা এ ঘর রইবে কোথায় পিছে,   বিষয়বোঝা টানে আমায় নীচে,     ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে যাবে পড়ে।         যাত্রী আমি ওরে।     চলতে পথে গান গাহি প্রাণ ভরে।        দেহ-দুর্গে খুলবে সকল দ্বার,        ছিন্ন হবে শিকল বাসনার,        ভাল মন্দ কাটিয়ে হব পার           চল্তে‌ রব লোকে লোকান্তরে!    যাত্রী আমি ওরে।  যা কিছু ভার যাবে সকল সরে।    আকাশ আমায় ডাকে দূরের পানে    ভাষাবিহীন অজানিতের গানে    সকাল সাঁঝে পরাণ মম টানে     কাহার বাঁশি এমন গভীর স্বরে!         যাত্রী আমি ওরে-     বাহির হলেম না জানি কোন ভোরে।        তখন কোথাও গায়নি কোনো পাখী,        কি জানি রাত কতই ছিল বাকি,        নিমেষহারা শুধু একটি আঁখি            জেগে ছিল অন্ধকারের পরে।    যাত্রী আমি ওরে।  কোন দিনান্তে পৌছব কোন ঘরে।    কোন তারকা দীপ জ্বালে সেইখানে    বাতাস কঁদে কোন কুসুমের ঘ্রাণে,    কে গো সেথায় স্নিগ্ধ দুনয়নে,     অনাদিকাল চাহে আমার তরে। ২৬ আষাঢ় ১৩১৭}} — গীতাঞ্জলি (1910)