নদী ভরা কূলে কূলে, ক্ষেতে ভরা ধান। আমি ভাবিতেছি বসে কি গাহিব গান!    কেতকী জলের ধারে    ফুটিয়াছে ঝোপে ঝাড়ে,    নিরাকুল ফুলভারে       বকুল বাগান। কানায় কানায় পূর্ণ আমার পরাণ। ঝিলিমিলি করে পাতা, ঝিকিমিকি আলো। আমি ভাবিতেছি কার আঁখি দুটি কালো!    কদম্বগাছের সার,    চিকন পল্লবে তার    গন্ধে ভরা অন্ধকার       হয়েছে যোরালো। কারে বলিবারে চাহি কারে বাসি ভালো! অম্লান-উজ্জ্বল দিন, বৃষ্টি অবসান। আমি ভাবিতেছি আজি কি করিব দান!    মেঘখণ্ড থরে থরে    উদাস বাতাস ভরে    নানা ঠাঁই ঘুরে’ মরে       হতাশ সমান। সাধ যায় আপনারে করি শত খান্। দিবস অবশ যেন হয়েছে আলসে। আমি ভাবি আর কেহ কি ভাবিছে বসে’!    তরুশাখে হেলাফেলা    কামিনী ফুলের মেলা,    থেকে থেকে সারাবেলা       পড়ে খসে’ খসে’। কি বাঁশি বাজিছে সদা প্রভাতে প্রদোষে! পাখীর প্রমোদগানে পূর্ণ বনস্থল। আমি ভাবিতেছি চোখে কেন আসে জল!    দোয়েল দুলায়ে শাখা    গাহিছে অমৃতমাখা,    নিভৃত পাতায় ঢাকা       কপোত যুগল। আমারে সকলে মিলে করেছে বিকল! ২৭ আষাঢ়, ১৩০০। — সোনার তরী (1894)