ভাঙা দেউলের দেবতা, তব বন্দনা রচিতে, ছিন্না    বীণার তন্ত্রী বিরতা। সন্ধ্যাগগনে ঘোষে না শঙ্খ    তোমার আরতি-বারতা। তব মন্দির স্থিরগম্ভীর,    ভাঙা দেউলের দেবতা!    তব জনহীন ভবনে থেকে থেকে আসে ব্যাকুল গন্ধ    নববসন্তপবনে। যে ফুলে রচে নি পূজার অর্ঘ্য,    রাখে নি ও রাঙা চরণে, সে ফুল ফোটার আসে সমাচার    জনহীন ভাঙা ভবনে।    পূজাহীন তব পূজারি কোথা সারা দিন ফিরে উদাসীন    কার প্রসাদের ভিখারি! গোধূলিবেলায় বনের ছায়ায়    চির-উপবাস-ভুখারি ভাঙা মন্দিরে আসে ফিরে ফিরে    পূজাহীন তব পূজারি।    ভাঙা দেউলের দেবতা, কত উৎসব হইল নীরব,    কত পূজানিশা বিগতা! কত বিজয়ায় নবীন প্রতিমা    কত যায় কত কব তা— শুধু চিরদিন থাকে সেবাহীন    ভাঙা দেউলের দেবতা। — কল্পনা (1900)