যে-সন্ধ্যায় প্রসন্ন লগনে   পূর্ণচন্দ্রে হেরিল গগনে     উৎসুক ধরণী, সর্বাঙ্গ বেষ্টিয়া তা’র তরঙ্গের ধন্য ধন্য ধ্বনি     মন্দ্রিয়া উঠিল কূলে কূলে; নদীর গদগদ বাণী অশ্রুবেগে উঠে ফুলে’ ফুলে’     কোটালের বানে, কী চেয়েছে কী ব’লেছে আপনি না জানে,   সে-সন্ধ্যায় প্রসন্ন লগনে তোমারে প্রথম দেখা দেখেছি জীবনে॥   যে-বসন্তে উৎকণ্ঠিত দিনে সাড়া এলো চঞ্চল দক্ষিণে;     পলাশের কুঁড়ি একরাত্রে বর্ণবহ্ণি জ্বালিল সমস্ত বন জুড়ি’;     শিমূল পাগল হ’য়ে মাতে, অজস্র ঐশ্বর্যভার ভ’রে তা’র দরিদ্র শাখাতে,     পাত্র করি’ পূরা আকাশে আকাশে ঢালে রক্ত-ফেন সুরা।     উচ্ছ্বসিত সে-এক নিমেষে যা-কিছু বলার ছিল ব’লেছি নিঃশেষে॥ ২৪ শ্রাবণ, ১৩৩৫ — মহুয়া (1929)