পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি, আমরা দুজন চ’ল্‌তি হাওয়ার পন্থী।   রঙীন্ নিমেষ ধূলার দুলাল   পরাণে ছড়ায় আবীর গুলাল,     ওড়্‌না ওড়ায় বর্ষার মেঘে       দিগঙ্গনার নৃত্য,     হঠাৎ-আলোর ঝলকানি লেগে       ঝলমল করে চিত্ত॥ নাই আমাদের কনকচাঁপার কুঞ্জ। বন-বীথিকায় কীর্ণ বকুল পুঞ্জ।   হঠাৎ কখন্ সন্ধেবেলায়   নামহারা ফুল গন্ধ এলায়,     প্রভাতবেলায় হেলাভরে করে       অরুণ কিরণে তুচ্ছ     উদ্ধত যত শাখার শিখরে       রডোডেনড্রন্ গুচ্ছ॥ নাই আমাদের সঞ্চিত ধন-রত্ন, নাই রে ঘরের লালন-ললিত যত্ন।   পথ পাশে পাখী পুচ্ছ নাচায়,   বন্ধন তা’রে করি না খাঁচায়,     ডানা-মেলে-দেওয়া মুক্তিপ্রিয়ের       কূজনে দুজনে তৃপ্ত।     আমরা চকিত অভাবনীয়ের       ক্কচিৎ কিরণে দীপ্ত॥ * আষাঢ়, ১৩৩৫ — মহুয়া (1929)