অমন দীন-নয়নে তুমি    চেয়ো না! অমন সুধা-করুণ সুরে    গেয়ো না! সকাল বেলা সকল কাজে আসিতে যেতে পথের মাঝে আমারি এই আঙিনা দিয়ে    যেয়ো না! অমন দীন-নয়নে তুমি    চেয়ো না! মনের কথা রেখেছি মনে    যতনে; ফিরিছ মিছে মাগিয়া সেই    রতনে! তুচ্ছ অতি, কিছু সে নয় দু চারি ফোঁটা অশ্রুময় একটি শুধু শশাণিত-রাঙা    বেদনা! অমন দীন-নয়নে তুমি    চেয়ো না! কাহার আশে দুয়ারে কর   হানিছ? না জানি তুমি কি মোরে মনে   মানিছ? রয়েছি হেথা লুকাতে লাজ, নাহিক মোর রাণীর সাজ, পরিয়া আছি জীর্ণচীর   রাসনা। অমন দীন-নয়নে তুমি   চেয়ে না! কি ধন তুমি এনেছ ভরি’   দু’হাতে? অমন করি’ যেয়ো না ফেলি’   ধূলাতে! এ ঋণ যদি শুধিতে চাই, কি আছে হেন, কোথায় পাই, জনম তরে বিকাতে হবে   আপনা! অমন দীন-নয়নে তুমি   চেয়ো না! ভেবেছি মনে ঘরের কোণে   রহিব। গোপন দুখ আপন বুকে   বহিব! কিসের লাগি করিব আশা, বলিতে চাহি, নাহিক ভাষা, রয়েছে সাধ, না জানি তার   সাধনা! অমন দীন-নয়নে তুমি   চেয়ো না! যে সুর তুমি ভরেছ তব   বাঁশিতে উহার সাথে আমি কি পারি   গাহিতে? গাহিতে গেলে ভাঙ্গিয়া গান উছলি উঠে সকল প্রাণ, না মানে রোধ অতি অবোধ   রোদনা! অমন দীন-নয়নে তুমি   চেয়ো না! এসেছ তুমি গলায় মালা   ধরিয়া, নবীন বেশ, শোভন ভূষা   পরিয়া। হেথায় কোথা কনক থালা, কোথায় ফুল, কোথায় মালা, বাসর-সেবা করিবে কেবা,   রচনা? অমন দীন-নয়নে তুমি   চেয়ো না! ভুলিয়া পথ এসেছ সখা   এ ঘরে! অন্ধকারে মালা-বাদল   কে করে! সন্ধ্যা হতে কঠিন ভুঁয়ে একাকী আমি রয়েছি শুয়ে, নিয়ে দীপ জীবন-নিশি   যাপনা। অমন দীন-নয়নে আর   চেয়ো না! ২৭ আষাঢ়, ১৩০০। — সোনার তরী (1894)