যৌবন নদীর স্রোতে তীব্র বেগভরে একদিন ছুটেছিনু; বসন্ত পবন উঠেছিল উচ্ছ্বসিয়া;—তীর-উপবন ছেয়েছিল ফুল্লফুলে;—তরুশাখা পরে গেয়েছিল পিককুল,—আমি ভাল করে’ দেখি নাই শুনি নাই কিছু-অনুক্ষণ দুলেছিনু আলোড়িত তরঙ্গ শিখরে মত্ত সন্তরণে। আজি দিবা অবসানে সমাপ্ত করিয়া খেলা উঠিয়াছি তীরে বসিয়াছি আপনার নিভৃত কুটীরে,— বিচিত্র কল্লোল গীত পশিতেছে কানে,— কত গন্ধ আসিতেছে সায়াহ্ণ সমীরে; বিস্মিত নয়ন মেলি হেরি শূন্য পানে গগনে অনন্তলোক জাগে ধীরে ধীরে। ৭ ফাল্গুন, ১৩০২। — চিত্রা (1896)