প্রবাহিনী দুর্গম দূর শৈল-শিরের      স্তব্ধ তুষার নই তো আমি; আপ্‌না-হারা ঝর্‌না-ধারা      ধূলির ধারায় যাই যে নামি’ সরোবরের গম্ভীরতায়      ফেনিল নাচের মাতন ঢালি; অচল শিলার ভ্রূ-ভঙ্গিমায়      বাজাই চপল করতালি। মন্দ্র-সুরের মন্ত্র শুনাই      গভীর গুহার আঁধার তলে, গহন বনের ভাঙাই ধেয়ান      উচ্চ হাসির কোলাহলে। শুভ্র ফেনের কুন্দ-মালায়      বিন্ধ্যগিরির বক্ষ সাজাই, যোগীশ্বরের জটার মধ্যে      তরঙ্গিণীর নূপুর বাজাই। বৃদ্ধ বটের লুব্ধ শিকড়      আমার বেণী ধরিতে চায়; সূর্য্য-কিরণ শিশুর মতন      অঙ্ক আমার ভরিতে চায়। নাই কোনো মোর ভয়-ভাবনা,      নাই কোনো মোর অচল রীতি গতি আমার সকল দিকেই,      শুভ আমার সকল তিথি। বক্ষে আমার কালোর ধারা,      আলোর ধারা আমার চোখে স্বর্গে আমার সুর চ’লে যায়,      নৃত্য আমার মর্ত্ত্যলোকে। অশ্রু-হাসির যুগল ধারা      ছোটে আমার ডাইনে বামে। অচল গানের সাগর-মাঝে      চপল গানের যাত্রা থামে। বুয়েনোস্ এয়ারিস্, ১১ ডিসেম্বর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)