আসিবে সে, আছি সেই আশাতে।    শোনো নি কি, দুজনাকে    নাম ধ’রে ঐ ডাকে নিশিদিন আকাশের ভাষাতে?    সুর বুকে আসে ভাসি’,    পথ চেনাবার বাঁশি বাজে কোন্ ও-পারের বাসাতে।    ফুল ফোটে বন-তলে    ইসারায় মোরে বলে “আসিবে সে”; আছি সেই আশাতে॥ এলো না তো এখনো সে এলো না।    আলো-আঁধারের ঘোরে    যে ডাক শুনিনু ভোরে, সে শুধু স্বপন, সে কি ছলনা?    হায় বেড়ে যায় বেলা,    কবে শুরু হবে খেলা, সাজায়ে বসিয়া আছি খেলনা,    কিছু ভালো কিছু ভাঙা,    কিছু কালো, কিছু রাঙা, যারে নিয়ে খেলা সে তো এলো না॥ আসে নি তো এখনো সে আসে নি।    ভেবেছিনু আসে যদি,    পাড়ি দেবো ভরা নদী, ব’সে আছি, আজো তরী ভাসেনি।    মিলায় সিঁদুর আলো,    গোধূলি সে হয় কালো, কোথা সে স্বপন-বন-বাসিনী?    মালতীর মালাগাছি,    কোলে নিয়ে ব’সে আছি, যারে দেবো, এখনো সে আসেনি॥ এসেছে সে, মন বলে, এসেছে।    সুবাস-আভাসখানি    মনে হয় যেন জানি, রাতের বাতাসে আজ ভেসেছে।    বুঝিয়াছি অনুভবে    বন-মর্ম্মর-রবে সে তা’র গোপন হাসি হেসেছে।    অদেখার পরশেতে    আঁধার উঠেছে মেতে, মন জানে, এসেছে সে এসেছে॥ বুয়েনোস্ এয়ারিস্‌, ৭ ডিসেম্বর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)