তরুলতা যে-ভাষায় কয় কথা   সে-ভাষা সে জানে,— তৃণ তা’র পদক্ষেপ দয়া বলি’ মানে।   পুষ্পপল্লবের ’পরে তা’র আঁখি অদৃশ্য প্রাণের হর্ষ দিয়ে যায় রাখি’। স্নেহ তা’র আকাশের আলোর মতন     কাননের অন্তর-বেদন       দূর করিবার লাগি’     নিত্য আছে জাগি’।   শিশু হ’তে শিশুতর গাছগুলি বোবা প্রাণে ভর-ভর;   বাতাসে বৃষ্টিতে চঞ্চলিয়া জাগে তা’রা অর্থহীন গীতে,   ধরণীর যে-গভীরে চির রসধারা     সেইখানে তা’রা কাঙাল প্রসারি’ ধরে তৃষিত অঞ্জলি, বিশ্বের করুণারাশি শাখায় শাখায় উঠে ফলি’;— সে তরুলতারি মতো স্নিগ্ধ প্রাণ তা’র;     শ্যামল উদার   সেবা যত্ন সরল শান্তিতে ঘনচ্ছায়া বিস্তারিয়া আছে চারিভিতে;     তাহার মমতা সকল প্রাণীর ’পরে বিছায়েছে স্নেহের সমতা;     পশু পাখী তা’র আপনার;     জীববৎসলার স্নেহ ঝরে শিশুপরে, বনে যেন নত মেঘভার     ঢালে বারিধার। তরুণ প্রাণের ’পরে করুণায় নিত্য সে তরুণী,—     —নাম কি করুণী? — মহুয়া (1929)