যারে সে বেসেছে ভালো তা’রে সে কাঁদায়।          নূতন ধাঁধায়       ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া দেয় তা’রে,        কেবলি আলো-আঁধারে         সংশয় বাঁধায়;—     ছল-করা অভিমানে বৃথা সে সাধায়।         সে কি শরতের মায়া   উড়ো মেঘে নিয়ে আসে বৃষ্টিভরা ছায়া?         অনুকূল চাহনির তলে           কী বিদ্যুৎ ঝলে!         কেন দয়িতের মিনতিকে   অভাবিত উচ্চ হাস্যে উড়াইয়া দেয় দিকে দিকে?        তা’র পরে আপনার নির্দ্দয় লীলায়          আপনি সে ব্যথা পায়, ফিরে যে গিয়েছে তা’রে ফিরায়ে ডাকিতে কাঁদে প্রাণ;    আপনার অভিমানে করে খানখান।    কেন তা’র চিত্তাকাশে সারা বেলা  পাগল হাওয়ার এই এলোমেলো খেলা!    আপনি সে পারে না বুঝিতে যেদিকে চলিতে চায় কেন তা’র চলে বিপরীতে!     গভীর অন্তরে   যেন আপনার অগোচরে আপনার সাথে তা’র কি আছে বিরোধ, অন্যেরে আঘাত করে আত্মঘাতী ক্রোধ;   মুহূর্ত্তেই বিগলিত করুণায়     অপমানিতের পায়      প্রাণমন দেয় ঢালি,—      —নাম কি হেঁয়ালি? — মহুয়া (1929)