দিবস যদি সাঙ্গ হল, না যদি গাহে পাখী,    ক্লান্ত বায় যদি না আর চলে,— এবার তবে গভীর করে’ ফেলগো মোরে ঢাকি    অতি নিবিড় ঘন তিমির তলে।       স্বপন দিয়ে গোপনে ধীরে ধীরে       যেমন করে ঢেকেছ ধরণীরে,    যেমন করে ঢেকেছ তুমি মুদিয়া-পড়া আঁখি,       ঢেকেছ তুমি রাতের শতদলে।        পাথেয় যার ফুরায়ে আসে পথের মাঝখানে,         ক্ষতির রেখা উঠেছে যার ফুটে,        বসনভূষা মলিন হল ধূলায় অপমানে,         শকতি যার পড়িতে চায় টুটে,—            ঢাকিয়া দিক তাহার ক্ষতব্যথা            করুণাঘন গভীর গোপনতা,         ঘুচায়ে লাজ ফুটাও তারে নবীন উষা পানে            কুড়ায়ে তারে আঁধার সুধাজলে॥ ১০ শ্রাবন ১৩১৭ — গীতাঞ্জলি (1910)