হে তটিনী, সে নগরে নাই কলস্বন তোমার কণ্ঠের মতো; উদার গগন, অলিখিত মহাশাস্ত্র, নীল পত্রগুলি দিক হতে দিগন্তরে নাহি রাখে খুলি; শান্ত স্নিগ্ধ বসুন্ধরা শ্যামল অঞ্জনে সত্যের স্বরূপখানি নির্মল নয়নে রাখে না নবীন করি; সেথায় কেবল একমাত্র আপনার অন্তর সম্বল অকূলের মাঝে। তাই ভীতশিশুপ্রায় হৃদয় চাহে না আজি লইতে বিদায় তোমা-সবাকার কাছে। তাই প্রাণপণে আঁকড়িয়া ধরিতেছে আর্ত আলিঙ্গনে নির্জনলক্ষ্মীরে। শুভশান্তিপত্র তব অন্তরে বাঁধিয়া দাও, কণ্ঠে পরি লব। ১৮ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)