আমার নয়ন-ভুলানো এলে। আমি কি হেরিলাম হৃদয় মেলে।       শিউলিতলার পাশে পাশে,       ঝরা ফুলের রাশে রাশে,       শিশির-ভেজা ঘাসে ঘাসে         অরুণরাঙা চরণ ফেলে         নয়ন-ভুলানো এলে। আলোছায়ার আঁচলখানি   লুটিয়ে পড়ে বনে বনে, ফুলগুলি ঐ মুখে চেয়ে   কি কথা কয় মনে মনে।       তোমায় মোরা করব বরণ,       মুখের ঢাকা কর হরণ,       ঐটুকু ঐ মেঘাবরণ         দু হাত দিয়ে ফেল ঠেলে।         নয়ন-ভুলানো এলে। বনদেবীর দ্বারে দ্বারে শুনি গভীর শঙ্খধ্বনি, আকাশবীণার তারে তারে   জাগে তোমার আগমনী।       কোথায় সোনার নূপুর বাজে,       বুঝি আমার হিয়ার মাঝে,       সকল ভাবে, সকল কাজে         পাষাণ-গালা সুধা ঢেলে—         নয়ন-ভুলানো এলে! ১৩১৪ — গীতাঞ্জলি (1910)