লড়াই-ক্ষ্যাপা
ওই আমাদের পাগলা জগাই, নিত্যি হেথায় আসে; আপন মনে গুনগুনিয়ে মুচকি-হাসি হাসে। চলতে গিয়ে হঠাৎ যেন থমক লেগে থামে, তড়াক করে লাফ দিয়ে যায় ডাইনে থেকে বামে। ভীষণ রোখে হাত গুটিয়ে সামলে নিয়ে কোঁচা, ‘এইয়ো’ বলে ক্ষ্যাপার মতো...
ওই আমাদের পাগলা জগাই, নিত্যি হেথায় আসে; আপন মনে গুনগুনিয়ে মুচকি-হাসি হাসে। চলতে গিয়ে হঠাৎ যেন থমক লেগে থামে, তড়াক করে লাফ দিয়ে যায় ডাইনে থেকে বামে। ভীষণ রোখে হাত গুটিয়ে সামলে নিয়ে কোঁচা, ‘এইয়ো’ বলে ক্ষ্যাপার মতো...
কল করেছেন আজবরকম চণ্ডীদাসের খুড়ো— সবাই শুনে সাবাস্ বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো। খুড়োর যখন অল্প বয়স—বছর খানেক হবে— উঠ্ল কেঁদে ‘গুংগা’ বলে ভীষণ অট্টরবে। আর তো সবাই ‘মামা’ ‘গাগা’ আবোল তাবোল বকে, খুড়োর মুখে ‘গুংগা’ শুনে চম্...
গান জুড়েছেন গ্রীষ্মকালে ভীষ্মলোচন শর্মা— আওয়াজখানা দিচ্ছে হানা দিল্লী থেকে বর্মা! গাইছে ছেড়ে প্রাণের মায়া, গাইছে তেড়ে প্রাণপণ, ছুটছে লোকে চারদিকেতে ঘুরছে মাথা ভন্ভন্। মরছে কত জখম হয়ে করছে কত ছট্ফট্— বলছে হেঁকে,...
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার, কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেও না খবরদার! সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ি— কাতুকুতুর কুল্পি খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ি। কোথায় বাড়ী কেউ জানে না, কোন্ সড়কের মোড়ে, একলা পেলে জোর ক’...
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি! শুনে শুনে আন্মন নাচে মোর প্রাণমন! মাজা–গলা চাঁচা সুর আহ্লাদে ভরপুর! গলা–চেরা গমকে গাছ পালা চমকে, সুরে সুরে কত প্যাঁচ গিট্কিরি ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্! যত ভয় যত দুখ দুরু দুরু ধুক্ ধুক...
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে? জানতে চাও সে কেমন ছেলে? মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো— রঙ যদিও বেজায় কালো; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন। বিদ্যে বুদ্ধি? বলছি মশাই— ধন্যি...
হেড অফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত, তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জান্ত? দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে, একলা বসে ঝিম্ঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে! আঁৎকে উঠে হাত-পা ছুঁ’ড়ে চোখটি ক’রে গোল, হটাৎ বলেন, “গেলুম গেল...
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে-যেন কে বৃদ্ধ, রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ। মাথা নেড়ে গান করে গুন্ গুন্ সংগীত— ভাব দেখে মনে হয় না-জানি কি পণ্ডিত! বিড়্ বিড়্ কি যে বকে নাহি তার অর্থ— “আকাশেতে ঝুল ঝোলে, কাঠে তাই গর্...
হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না), হয়ে গেলে ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না। বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি! অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।” টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা— পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে কাঁচা লঙ্কা? ছাগলের প...
টাকার আপদ বুড়ো মুচি রাতদিনই কাজ করছে আর গুনগুন গান করছে। তার মেজাজ বড় খুশি, স্বাস্থ্যও খুব ভাল। খেটে খায়; স্বচ্ছন্দে দিন চলে যায়। তার বাড়ির ধারে এক ধনী বেনে থাকে। বিস্তর টাকা তার; মস্ত বাড়ি, অনেক চাকরবাকর। মনে কিন...
অতি গরিব এক অন্ধ। তার ভারি দুঃখ—তার ঘরবাড়ি নাই, টাকা পয়সা নাই, ছেলেপিলে নাই, আর সে চোখে দেখতে পায় না। মনের দুঃখে অনেক কষ্টে তার দিন কাটে। একদিন স্বর্গ থেকে দেবদূত এসে বললেন, “ওরে অন্ধ, তুই আর কাঁদিস নে, আমি তোকে বর দি...
রামের শঙ্খ গরিব চাষা বেচারার বড় দুরবস্থা। সেবার তার খেতের শস্য এতই কম হয়েছে যে তার দুবেলা পেট ভরে খাওয়াই জোটে না। তার ভাঙা কুঁড়ের পাশেই এক দুষ্টু লোকের বাড়ি; সে অনেক গরিব লোককে ফাঁকি দিয়ে দেদার টাকা আর মস্ত দালান...